চোখে নেই আলো, বুকে বেঁচে থাকার জেদ: অন্ধ মালতীর আকুতি পৌঁছাবে কি কারো দ্বারে?
- আপডেট: ০৫:৫৪:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০৪০

চোখে নেই আলো, বুকে বেঁচে থাকার জেদ: অন্ধ মালতীর আকুতি পৌঁছাবে কি কারো দ্বারে?
আলো কী জিনিস, তা তিনি জন্মের পর থেকেই দেখেননি। প্রকৃতির রঙ, রূপ কিংবা প্রিয়জনদের মুখাবয়ব—সবকিছুই তাঁর কাছে কেবলই অনুভবের। জন্ম থেকেই অন্ধ মালতী বণিক। কিন্তু চোখের এই আধার ছাড়িয়ে তাঁর জীবনে নেমে এসেছে আরও বড় এক নিষ্ঠুর অন্ধকার—মা-বাবার স্নেহচ্ছায়া চিরতরে হারিয়ে যাওয়া।
তিন বছর আগে একে একে মারা গেছেন বাবা হৃদয় বণিক ও মা। মাথার ওপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ার পর থেকেই ভাই মনোরঞ্জন বণিকের ছোট্ট সংসারে কোনোমতে আশ্রয় মেলে তাঁর। অভাবের এই সংসারে দুই বেলা দুমুঠো ভাত জোটে না ঠিকমতো। খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করাটাই যেন মালতীর জীবনের নিত্যদিনের রুটিন।
সরকার থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা হিসেবে মাসে মাত্র ৯০০ টাকা পান তিনি। এই বর্তমান বাজারে ৯০০ টাকায় কি একজন মানুষের আস্ত একটি মাস চলতে পারে? এই প্রশ্ন আজ কেবল মালতীর নয়, সমাজের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের কাছে তাঁর নীরব আর্তনাদ।
ভাইয়ের সংসারে বোঝা না হয়ে নিজের সামান্য একটু আয়ের পথ খুঁজতে বাড়ির সামনে ছোট্ট একটি টেবিল নিয়ে বসে থাকেন মালতী। চারপাশে কয়েকটি প্লাস্টিকের বোয়েমে সাজানো থাকে ছোট বাচ্চাদের পছন্দের বিস্কুট, কেক, চানাচুর আর চকলেট। গ্রামের মায়েরা যখন সন্তানকে নিয়ে আসেন, বোয়েম থেকে কিছু খাবার কিনে বাচ্চাদের হাতে তুলে দেন—এভাবেই তিল তিল করে কোনো রকমে টেনেটুনে চলছে তাঁর কষ্টের জীবন।
জন্মের অন্ধত্বকে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মেনে নিয়েও মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকতে চান মালতী। পেটের টানে নয়, কেবল একটু সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার জন্য আজ একটি স্থায়ী কর্মসংস্থান ও মানবিক সহযোগিতার হাত প্রয়োজন তাঁর। মালতী বণীকের মোবাইল নম্বর– ০১৭৭৬৯৭৯৫৩৯ (বিকাশ) সরাসরি কথা বলতে পারেন।
সমাজের বিত্তবান মানুষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের একটু সহানুভূতি এবং সহযোগিতাই পারে অন্ধ মালতীর মলিন মুখে একটু হাসির ঝিলিক ফোটাতে। একটু স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা হলে হয়তো এই অভাগিনীর জীবনের চলার পথ কিছুটা হলেও সুগম হতো।











