বালিয়াডাঙ্গীতে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ
- আপডেট: ০৩:২৩:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৮০০৪

বালিয়াডাঙ্গীতে গরুর ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েসহ তিনজনকে মারধরের অভিযোগ
বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের বোয়ালধার গ্রামে গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে মা-মেয়েসহ একই পরিবারের তিনজনকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত তিনজনকে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বোয়ালধার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত আকবর আলীর ছেলে ফয়জুল ইসলামের গরু ছুটে গিয়ে গ্রামের সলেমান আলীর ছেলে মো. জবাইদুরের জমির মারুয়া ঘাস খায়। এ সময় জবাইদুর গরুটি ধরে একটি ধানখেতে বেঁধে রাখেন। এতে ওই গরু কিছুটা ধানক্ষেত নষ্ট করে।
পরে ফয়জুল ইসলামের ১৭ বছর বয়সী মেয়ে আশামনি গরু আনতে গিয়ে ধানখেতে গরু বেঁধে রাখার কারণ জানতে চাইলে জবাইদুর তার সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে আশামনির মা খায়রুন ঘটনাস্থলে গেলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে জবাইদুর মা-মেয়েকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি। খবর পেয়ে ফয়জুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গেলে জবাইদুর, তার ভাই হামিদুর রহমান, সলেমান আলীসহ কয়েকজন লাঠিসোঁটা ও লোহার রড নিয়ে তার ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে ফয়জুল ইসলামের বাম চোখের ওপরের অংশে কাটা জখম হয়। তার মেয়ে আশামনির কোমরের নিচে ডান পাশে আঘাত লাগে এবং এতে তার হাড় ভেঙে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এছাড়া ফয়জুলের স্ত্রী খায়রুনও গুরুতর আহত হন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এসময় হামলাকারীরা বাড়িতে এসে গেট ভাঙচুর করে এবং বাড়ি থেকে একটি মোটরসাইকেল বের করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রামবাসীরা এগিয়ে এলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ফয়জুল, আশামনি ও খায়রুনকে ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে অভিযুক্ত জবাইদুর ও তার ভাই হামিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ করেছেন কয়েকজন গ্রামবাসী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। পরবর্তীতে অভিযুক্তদের বক্তব্য পেলে তা প্রকাশ করা হবে।











