মোঃ খলিলুর রহমান খলিলঃ
মানুষ স্রষ্টার সৃষ্টিকে মনে রাখে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে মাত্র এক বছর আগে যোগদান করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে সঠিক সময়ে সঠিক সেবা প্রদানের মাধ্যমে নবীনগরের গ্রহণযোগ্য জনপ্রিয় অফিসার হিসেবে সুনাম অর্জন করেছেন রাজিব চৌধুরী। তিনি নবীনগরের যোগদানের পর পর পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নবীনগরের শহর ঘেঁষে বয়ে যাওয়া তিতাস নদীর শাখা নদী বড়ী নদীর তীর থেকে ময়লা আবর্জনার স্থপ পরিষ্কার করেন। নবীনগর শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, নবীনগর শহরকে যানজটমুক্ত করার জন্য মাঝিকাড়া ব্রীজের উত্তর পাশদিয়ে কলেজ পাড়া হয়ে হসপিটাল দিয়ে পশ্চিমপাড়ায় বের হওয়ার একটি বিকল্প রাস্তা করেন। রাজিব চৌধুরীকে যেকোনো সময় যেকোনো সমস্যা সম্পর্কে জনগণ অবগত করলে তিনি সর্বদা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তিনি নবীনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের জটিল সমস্যা বুদ্ধিমত্তার সাথে সমাধান করেছেন তিনি নবীনগরের শিক্ষা উন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়নেও বুদ্ধিমত্তার সাথে বিভিন্ন এলাকায় সমাহারে অর্থ বন্টন এর মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়নে চেষ্টা করেছেন। এই সৃষ্টিকর্মকে মানুষ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণে রাখবে এমনটাই মনে করেন নবীনগরের সচেতন নাগরিক বৃন্দ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরীকে বদলিকৃত পদায়নের মাধ্যমে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । তিনি ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নবীনগরে যোগদান করেন। গত ১৩ মাসে তিনি যে দক্ষতা, আন্তরিকতা ও উদ্ভাবনী নেতৃত্বের পরিচয় রেখে গেছেন, তা নবীনগরের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সৃষ্টি করেছে নতুন দৃষ্টান্ত।
রাজনৈতিক অস্থিতিশীল সময়েও প্রশাসনিক দায়িত্বকে তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেন। জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে এগিয়ে আসেন সরাসরি মাঠে নেমে। সিন্ডিকেট ভেঙে আলীয়াবাদ–কাউতলী রুটে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া কমাতে গণশুনানি আয়োজন করেন এবং জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় চালু করেন ন্যায্য ভাড়ার বাস সার্ভিস। এতে ওই রুটের কয়েক বছরের জনদুর্ভোগে আসে স্বস্তি।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মাথায় বন্ধ থাকা আশুগঞ্জ–নবীনগর সড়কের উন্নয়নকাজ পুনরায় শুরু করাতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। বুয়েটের প্রকৌশলী হিসেবে নিজের পেশাগত সম্পর্ক এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সক্রিয় করে দ্রুত নির্মাণকাজ চালুর ব্যবস্থা করেন—যা স্থানীয়দের কাছে প্রশংসিত হয়।
পৌরসভার প্রশাসক হিসেবেও তিনি দেখান কার্যকর নেতৃত্ব। পৌর এলাকায় যানজট নিরসনে নিয়োগ দেন ইউনিফর্মধারী ২০ জন ভিডিপি সদস্য। কলেজ রোডের চলমান কাজকে ত্বরান্বিত করে তিনি যানজট মোকাবিলায় তৈরি করেন দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।
নবীনগরের বুড়ি নদীর তীরে জমে থাকা বছরের পর বছরের আবর্জনা অপসারণ, ডাম্পিং স্পটে বর্জ্য স্থানান্তর, নদীপাড়ে ডাস্টবিন স্থাপন, সচেতনতামূলক ব্যানার টানানো এবং পুরো নদীপাড়কে ২০টি সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, এসব উদ্যোগের ফলে নদী ধীরে ধীরে ফিরে পাচ্ছে তার আগের স্বাভাবিক সৌন্দর্য।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায়ও ছিল উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পুনঃনিয়োজিত করতে গঠন করা হবে মেধা বিকাশ পরিষদ, মাধ্যমিক থেকে কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ভূমি বিষয়ে বেসিক কোর্স, এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সব মাদ্রাসায় প্রতিষ্ঠা করা হবে আরবি ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব,যার কার্যক্রম ইতোমধ্যে তিনটি মাদ্রাসায় শুরু হয়েছে।
মোট ১৩ মাসের দায়িত্বকাল বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—তিনি রুটিন প্রশাসনিক কাজের বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তা, কমিউনিটি এনগেজমেন্ট এবং মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। শক্তির বদলে অংশগ্রহণমূলক প্রশাসনের মডেল বাস্তবায়ন করেছেন নিজের কর্মপ্রচেষ্টায়।
নতুন দায়িত্বে আরও সফলতা কামনা করেছেন সকল শ্রেণি–পেশার মানুষ।
সম্পাদক: মিলন খান মোবাইল +৮৮০১৮৩০-৩০৩১৩১ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আব্দুল জব্বার মোবাইল +৮৮০১৭২২-৩৬৩৪০৪ বার্তা সম্পাদক: রাকিব ফেরদৌস মোবাইল +৮৮০১৮৬১-৬৫৮৮৭৫
বানিজ্যিক কার্যালয়: রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ।