নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছে প্রশাসন
করতেয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদীর বালু লুটের মহ মহোৎসব।
ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার সাঘাটার করতেয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদী অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে । ৫/৬ টি স্পটে ইঞ্জিন শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে প্রকাশ্যেই নদীর তলদেশ কেটে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রশাসনকে মাসিক টাকা দিয়েই দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ ব্যবসা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। তবে উপজেলা প্রশাসন জানান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাঘাটা উপজেলার করতেয়া-বাঙ্গালী-আলাই নদীর মসজিদের ঘাট, ত্রিমোহনী, কচুয়া, হিন্দুপাড়া এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দিনে-দুপুরে ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন চলছে। এই বালু অবৈধ ভাবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কাকরা গাড়ীতে বিভিন্ন স্থানে নেয়া হচ্ছে । ফলে গ্রামীন এই সব জনপদগুলো রাস্তা ঘাট নষ্ট হচ্ছে । নদীর বুক চিরে বালু তোলা হলেও কোথাও কোনো কার্যকর নজরদারি বা প্রশাসনিক তৎপরতার ছাপ নেই।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চললেও রহস্য জনক কারণে কোনো দৃশ্যমান অভিযান হয়নি। ফলে বালু উত্তোলন যেন এক প্রকার ‘লাইসেন্সপ্রাপ্ত’ কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় শরিফ মিয়া নামের এক কলেজ ছাত্র বলেন, অবৈধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে নদী ভাঙনের ঝুঁকি। হুমকির মুখে পড়েছে নদী পাড়ের ফসলি জমি, বসতভিটা ও গ্রামীণ সড়ক। বালুবাহী ভারী ট্রাকের দাপটে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বেড়েছে ধুলাবালির যন্ত্রণা ও জনভোগান্তি।
নদী পাড়ের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুস বলেন, সরকারী ভাবে নদী খনন করার পরে আমরা মনে করছিলাম আমাদের ঘর বাড়ী রক্ষা হল। এখন অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে গভীর গর্তের কারনে এই নদীই আমাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।
কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ আলী বলেন, দিন-রাত ড্রেজারের শব্দ আর ট্রাক চলাচলের কারণে এখানে থাকা খুব কষ্ট কর হয়ে গেছে। অনেক দিন ধরে অভিযোগ করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। দ্রুত অবৈধ ড্রেজার সরানো, বালু উত্তোলন বন্ধ করা এবং যারা জড়িত তাদের শাস্তির দাবি করেন তিনি।
স্থানীয় সাঘাটা উপজেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়ন সহ সভাপতি সাংবাদিক খ. ম মিজানুর রহমান রাঙ্গা জানান, গতকাল (১৩ জানুয়ারী) মঙ্গলবার উপজেলা সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীরকে উপজেলার বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে কথা বলতে গেলে সাংবাদিকদের কথা বলা থামিয়ে দেওয়া হয় এবং সাংবাদিকদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি । ফলে আমরা মনে করি এমন সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকলে উপজেলার অনিয়ম বেড়েই চলবে ।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ আশরাফুল কবীর জানায়, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযান অব্যাহত রেখে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদক: মিলন খান মোবাইল +৮৮০১৮৩০-৩০৩১৩১ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: আব্দুল জব্বার মোবাইল +৮৮০১৭২২-৩৬৩৪০৪ বার্তা সম্পাদক: রাকিব ফেরদৌস মোবাইল +৮৮০১৮৬১-৬৫৮৮৭৫
বানিজ্যিক কার্যালয়: রাণীশংকৈল, ঠাকুরগাঁও, বাংলাদেশ।