০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

  • আপডেট: ০৩:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ১৮০২১

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

 

 

জয়নুল আবেদীন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, থানা ঈদগাহ দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার প্রধান হাফেজ মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে ৫৯৩ নম্বর স্মারকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত এতিমদের খাদ্য সহায়তা বাবদ চাল বরাদ্দের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রাথমিক তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে সেই তালিকায় পরিবর্তন এনে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম সংযোজন করা হয়েছে।

বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস তার স্বাক্ষর করা সুপারিশপত্র পরিবর্তন এবং স্বাক্ষর জালের বিষয়টি শনাক্ত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ বাগিয়ে নিচ্ছে। এ চক্রের মাধ্যমে জেলায় নতুন নতুন ভুয়া ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে শর্তসাপেক্ষে সরকারি বরাদ্দ এনে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বরাদ্দের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বাকি অংশ চক্রটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফেজ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি ইউএনওর স্বাক্ষর জালের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন, “ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করাসহ শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প পাইয়ে দিতে দালালির অভিযোগ রয়েছে হারুনের বিরুদ্ধে। শর্তে রাজি না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়।”

মাদ্রাসা প্রধান আব্দুল হামিদ বলেন, “হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে একটি জালিয়াতি চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারীদের অন্যতম বড়পলাশবাড়ী ইসলামিক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কুসুমউদ্দীন বলেন, “বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে।”

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। আমার স্বাক্ষর জালের ঘটনায় কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

আপডেট: ০৩:০৭:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

বালিয়াডাঙ্গীতে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর চাল বরাদ্দে ইউএনওর স্বাক্ষর জালের অভিযোগ

 

 

জয়নুল আবেদীন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে জিআর (জেনারেল রিলিফ) চাল বরাদ্দের প্রস্তাব পাঠাতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও অনিয়মের অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কয়েকটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর দাখিল করা এক লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন, থানা ঈদগাহ দারুল কোরআন হাফেজিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার প্রধান হাফেজ মো. হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৫ তারিখে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় থেকে ৫৯৩ নম্বর স্মারকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত এতিমদের খাদ্য সহায়তা বাবদ চাল বরাদ্দের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকদের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের পাঠানো প্রাথমিক তালিকায় তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পরে সেই তালিকায় পরিবর্তন এনে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম সংযোজন করা হয়েছে।

বিষয়টি অনুসন্ধান করতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস তার স্বাক্ষর করা সুপারিশপত্র পরিবর্তন এবং স্বাক্ষর জালের বিষয়টি শনাক্ত করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র বিভিন্ন অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারি বরাদ্দ বাগিয়ে নিচ্ছে। এ চক্রের মাধ্যমে জেলায় নতুন নতুন ভুয়া ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে শর্তসাপেক্ষে সরকারি বরাদ্দ এনে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বরাদ্দের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বাকি অংশ চক্রটি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাফেজ হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি ইউএনওর স্বাক্ষর জালের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।”

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ ইসমাইল হোসেন বলেন, “ইউএনওর স্বাক্ষর জাল করাসহ শর্তসাপেক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প পাইয়ে দিতে দালালির অভিযোগ রয়েছে হারুনের বিরুদ্ধে। শর্তে রাজি না হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়।”

মাদ্রাসা প্রধান আব্দুল হামিদ বলেন, “হারুন অর রশিদ দীর্ঘদিন ধরে একটি জালিয়াতি চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনা হলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসবে।”

অভিযোগকারীদের অন্যতম বড়পলাশবাড়ী ইসলামিক আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কুসুমউদ্দীন বলেন, “বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হবে এবং প্রকৃত ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ন্যায্য অধিকার পাবে।”

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অঞ্জন কুমার দাস বলেন, “অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। আমার স্বাক্ষর জালের ঘটনায় কারা জড়িত তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”