ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, খালাস অপর আসামি
- আপডেট: ০২:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
- / ১৮০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন, খালাস অপর আসামি
মোঃ জয়নাল আবেদীন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে মো. আব্দুল মমিন নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় একই মামলার অপর আসামি মো. এরশাদকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিন ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগী ওরফে প্রামাণিকের ছেলে।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাতে ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে রেখে তার মা পাশের একটি বাড়িতে যান। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, প্রতিবেশী আব্দুল মমিন তার মেয়েকে ধর্ষণ করছে। বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে মায়ের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্তের ভাই মো. এরশাদের কাছে বিচার চাইলে তিনি কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো হুমকি দেন এবং মমিনকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আপোসের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হলে ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর রাণীশংকৈল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ২২৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দেন, দণ্ডিতের কাছ থেকে আদায়যোগ্য ২ লাখ টাকা ভুক্তভোগী কিশোরীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে।
প্রয়োজনে তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামের মাধ্যমে অর্থ আদায় করে আদালতে জমা দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫-এ ধারা অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার চলাকালে আসামির হাজতবাসের সময় মূল সাজা থেকে সমন্বয়ের নির্দেশ দেন। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুল মমিনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর পর ভুক্তভোগী পরিবার এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে তারা মনে করছেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ ফরিদ দাবি করেন, তার মক্কেল নির্দোষ এবং সাক্ষ্য-প্রমাণে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।





