বালিয়াডাঙ্গীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ক্ষোভ
- আপডেট: ০১:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৮০১১

বালিয়াডাঙ্গীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে ক্ষোভ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে কলন্দা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে মশিউর রহমান নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তিনি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের কলন্দা পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুরের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলীর দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করে মশিউর রহমানের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মশিউর তাঁর গেঞ্জির কলার ধরে টানাহেঁচড়া করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে মারধর করেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি চিকিৎসা নেওয়ার প্রস্তুতি নেন।
আব্দুস সবুর জানান, তিনি সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা দেওয়ার পর সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পর মশিউর রহমান বিদ্যালয়ে এসে সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী কেন সাড়ে ৯টায় এসেছেন, তা জানতে চান। রাশেদ ঢাকায় পরীক্ষা দিতে যাওয়ায় ট্রেন দেরিতে পৌঁছানোর কারণে তাঁর আসতে দেরি হয়েছে বলে তিনি জানান। এ কথা বলার পরই মশিউর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।
শিক্ষার্থীর অভিভাবক হামিদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, মশিউর রহমান প্রায়ই বিদ্যালয়ে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন এবং নিজেকে প্রধান শিক্ষকের মতো জাহির করার চেষ্টা করেন। এমনকি অনুমতি ছাড়া শিক্ষকদের চেয়ারে বসেন বলেও অভিযোগ তাঁর। এর আগেও কয়েকবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আব্দুস সবুর দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মানের উন্নতি হয়েছে। তবে বিদ্যালয়টি মশিউর রহমানের বাড়ির কাছে হওয়ায় তিনি সেখানে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁরা সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিনকে অন্য বিদ্যালয়ে বদলির জন্য শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দাবি জানান।
এ ছাড়া কিছুদিন আগে বিদ্যালয়ের ওয়াই-ফাই রাউটার খুলে নিয়ে যাওয়া এবং এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাপ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক রাশেদ আলী বলেন, “আমি ঢাকায় পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম। ট্রেন দেরি করায় বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে আধা ঘণ্টা দেরি হয়। আমি হেড স্যারকে ফোনে জানিয়েছিলাম। আমার দেরিতে আসাকে কেন্দ্র করেই তাঁদের মধ্যে প্রথমে বাক্বিতণ্ডা এবং পরে মারামারি হয়। আমি ও স্থানীয়রা এসে তাঁদের থামাই। তবে বিদ্যালয়ে বাইরের লোক এসে মারামারি করা কখনোই কাম্য নয়।”
ঘটনার পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুস সবুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানান। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী শিক্ষিকা সাবিনা ইয়াসমিন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযুক্ত মশিউর রহমানের বাড়িতে গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বালিয়াডাঙ্গী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আনসার আলী বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।


