০৪:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

**বিপ্লবী তিতুমীর: বাংলার মুক্তির প্রতীক”

  • আপডেট: ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
  • / ১৮০৫৯

 

মোঃ রেজাউল করিম
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আজ তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী**

বাংলার কৃষকবিদ্রোহ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে তিতুমীর এক অনন্য নাম। অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,অবিচারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার মুক্তির প্রতীক। আজ এই মহান বিপ্লবীর শাহাদাতবার্ষিকী।

১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি চব্বিশ পরগনার চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া তিতুমীরের যাত্রা শুরু হয় সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে। মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক-বিদআত দূর করা এবং মানুষকে ইসলামের সঠিক অনুশাসনের দিকে ফেরানোই ছিল তাঁর প্রথম লক্ষ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের নিষ্পেষণে জর্জরিত বাংলার সাধারণ মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হতে থাকে।

বিশেষ করে হিন্দু জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের আরোপ করা বৈষম্যমূলক ‘দাঁড়ির খাজনা’ ও মসজিদের করের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। এই করের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ,অন্যায় ও কর্তৃত্বের নগ্ন প্রকাশ দেখা যায়—যার প্রতিবাদেই তিতুমীরের সংগ্রাম ধীরে ধীরে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

চব্বিশ পরগনা,নদীয়া ও ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি গড়ে তোলেন গণসমর্থন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা জমিদারদের আতঙ্কিত করে তোলে। তারা ইংরেজ শাসকদের সহায়তা চাইলে ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীদের দমন করতে অভিযানে নামে।

তবে প্রথম ধাক্কায় ইংরেজ-জমিদার মিলিত বাহিনী তিতুমীরের যোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়। পরে গভর্নর জেনারেলের নির্দেশে কামান ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বড় বাহিনী পাঠানো হয়।

১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা ঘিরে শুরু হয় চূড়ান্ত আক্রমণ। কামানের প্রচণ্ড গোলায় কেল্লা বিধ্বস্ত হয়। কয়েকদিনের টানা যুদ্ধের পর
১৯ নভেম্বর,যুদ্ধক্ষেত্রেই শাহাদাত বরণ করেন বাংলার এই বীর সন্তান। তাঁর বহু অনুসারী নিহত হন,শতাধিক যোদ্ধা বন্দি হয়। অধিনায়ক গোলাম মাসুমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাঁশের কেল্লার সেই সংগ্রাম আজও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার বীরত্বগাথার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।

শহীদ তিতুমীর শুধু এক নাম নয়—তিনি অত্যাচার-বিরোধী প্রতিরোধের অগ্নিশিখা,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস,
এবং বাংলার স্বাধীনতার এক অমর প্রতীক- “শহীদ তিতুমীর।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

**বিপ্লবী তিতুমীর: বাংলার মুক্তির প্রতীক”

আপডেট: ০৮:৫৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫

 

মোঃ রেজাউল করিম
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

আজ তাঁর শাহাদাতবার্ষিকী**

বাংলার কৃষকবিদ্রোহ ও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসে তিতুমীর এক অনন্য নাম। অত্যাচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ,অবিচারের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার মুক্তির প্রতীক। আজ এই মহান বিপ্লবীর শাহাদাতবার্ষিকী।

১৭৮২ সালের ২৭ জানুয়ারি চব্বিশ পরগনার চাঁদপুর গ্রামে জন্ম নেওয়া তিতুমীরের যাত্রা শুরু হয় সমাজ সংস্কারের মাধ্যমে। মুসলিম সমাজে প্রচলিত শিরক-বিদআত দূর করা এবং মানুষকে ইসলামের সঠিক অনুশাসনের দিকে ফেরানোই ছিল তাঁর প্রথম লক্ষ্য। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অত্যাচারী জমিদার ও নীলকরদের নিষ্পেষণে জর্জরিত বাংলার সাধারণ মানুষ তাঁর চারপাশে সমবেত হতে থাকে।

বিশেষ করে হিন্দু জমিদার কৃষ্ণদেব রায়ের আরোপ করা বৈষম্যমূলক ‘দাঁড়ির খাজনা’ ও মসজিদের করের বিরুদ্ধে তিনি কঠোর অবস্থান নেন। এই করের মধ্যেই সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ,অন্যায় ও কর্তৃত্বের নগ্ন প্রকাশ দেখা যায়—যার প্রতিবাদেই তিতুমীরের সংগ্রাম ধীরে ধীরে সশস্ত্র প্রতিরোধে রূপ নেয়।

চব্বিশ পরগনা,নদীয়া ও ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি গড়ে তোলেন গণসমর্থন। সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা জমিদারদের আতঙ্কিত করে তোলে। তারা ইংরেজ শাসকদের সহায়তা চাইলে ব্রিটিশ বাহিনী তিতুমীর ও তাঁর অনুসারীদের দমন করতে অভিযানে নামে।

তবে প্রথম ধাক্কায় ইংরেজ-জমিদার মিলিত বাহিনী তিতুমীরের যোদ্ধাদের কাছে পরাজিত হয়। পরে গভর্নর জেনারেলের নির্দেশে কামান ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত বড় বাহিনী পাঠানো হয়।

১৮৩১ সালের ১৪ নভেম্বর, ঐতিহাসিক বাঁশের কেল্লা ঘিরে শুরু হয় চূড়ান্ত আক্রমণ। কামানের প্রচণ্ড গোলায় কেল্লা বিধ্বস্ত হয়। কয়েকদিনের টানা যুদ্ধের পর
১৯ নভেম্বর,যুদ্ধক্ষেত্রেই শাহাদাত বরণ করেন বাংলার এই বীর সন্তান। তাঁর বহু অনুসারী নিহত হন,শতাধিক যোদ্ধা বন্দি হয়। অধিনায়ক গোলাম মাসুমকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

বাঁশের কেল্লার সেই সংগ্রাম আজও ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে বাংলার বীরত্বগাথার অন্যতম উজ্জ্বল অধ্যায়।

শহীদ তিতুমীর শুধু এক নাম নয়—তিনি অত্যাচার-বিরোধী প্রতিরোধের অগ্নিশিখা,
সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস,
এবং বাংলার স্বাধীনতার এক অমর প্রতীক- “শহীদ তিতুমীর।