গাইবান্ধায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে আ.লীগ নেতার মৃত্যু।
- আপডেট: ০৮:৩৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৫
- / ১৮০৫২

গাইবান্ধায় কারাগারে অসুস্থ হয়ে আ.লীগ নেতার মৃত্যু।
ফয়সাল রহমান জনি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তারিক রিফাত (৫০) নামে এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা।
রোববার (২৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শিশির ঘোষ জানায়, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
তারিক রিফাত গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৪নং রাজাহার ইউনিয়নের প্রভুরামপুর গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আবু তাহের বিএসএসের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মলীগের আহ্বায়ক ছিলেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা কারাগারের জেলার মো. আতিকুর রহমান জানান, বিকেল ৪টার দিকে তাকে কারাগারে আনা হয়। কিছুক্ষণ পরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ৪টা ২০ মিনিটে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে ৪টা ৩৫ মিনিটে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি তারিক রিফাতের হৃদ্যন্ত্রে রিং পরানো হয়েছিল এবং তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম জানান, ১৭ নভেম্বর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর সেদিন রাতেই তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়।
অসুস্থতার কারণে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে শনিবার বিকেলে তাকে থানায় আনা হয়। দুপুরে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
তিনি আরও জানান, তারিক রিফাতের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্টের আগে ফুলপুকুরিয়া এলাকায় হামলা, বিএনপি অফিস ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ, জামায়াত নেতাকে হত্যার চেষ্টা এবং বিস্ফোরক আইনের একাধিক মামলায় অভিযোগ রয়েছে।
এরমধ্যে দুটি মামলায় তিনি এজাহারনামীয় আসামি ছিলেন। এরআগে তাকে গত ১৯ অক্টোবর গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
রাজনীতির পাশাপাশি তারিক রিফাত এলাকার একজন সফল উদ্যোক্তা ও যুব সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। স্থানীয়ভাবে পুকুরে মাছ চাষে তার সুনাম ছিল এবং দলমত নির্বিশেষে তিনি এলাকায় জনপ্রিয় ছিলেন।




















