১০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা দাবির চাপ; অপমানে বাবার আ ত্ম হ ত্যা 

  • আপডেট: ১০:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০১৭

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা দাবির চাপ; অপমানে বাবার আ ত্ম হ ত্যা

 

 

জয়নাল আবেদীন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর মেয়ের বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি, হুমকি ও সামাজিক অপমানের জেরে আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী আ ত্ম হ ত্যা করেছেন।

 

 

রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সরলিয়া (মুরগী বস্তি) গ্রামে এ ঘটনা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। এতে রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে স্কুলছাত্রী। ভয় পেয়ে সে কাগজে স্বাক্ষর করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য, ১ জুলাই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাইফুল ইসলাম মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠানোর পাশাপাশি আবুল কাসেমের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেদিন বিকেলে বাড়ির সামনে আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

 

আবুল কাসেমের স্ত্রী লাবণী আক্তার জানান, হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন ধরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রোববার সকালে আবুল কাসেম বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিনের ভয়, মানসিক চাপ ও প্রকাশ্যে অপমানের কারণে তার ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

এদিকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী বাড়িতে নেই এবং তিনি যতদূর জানেন, ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করা হয়নি।

 

 

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে এসেছে। পরিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা দাবির চাপ; অপমানে বাবার আ ত্ম হ ত্যা 

আপডেট: ১০:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ের অভিযোগ, ২০ লাখ টাকা দাবির চাপ; অপমানে বাবার আ ত্ম হ ত্যা

 

 

জয়নাল আবেদীন ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে বিয়ে করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের দাবি, ওই ঘটনার পর মেয়ের বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি, হুমকি ও সামাজিক অপমানের জেরে আবুল কাসেম (৪২) নামে এক মুদি ব্যবসায়ী আ ত্ম হ ত্যা করেছেন।

 

 

রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের সরলিয়া (মুরগী বস্তি) গ্রামে এ ঘটনা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

 

পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার পথে ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়। এতে রাজি না হলে তার বাবা ও ছোট ভাইকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে স্কুলছাত্রী। ভয় পেয়ে সে কাগজে স্বাক্ষর করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

পরিবারের ভাষ্য, ১ জুলাই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সাইফুল ইসলাম মেয়েটিকে তার বাড়িতে পাঠানোর পাশাপাশি আবুল কাসেমের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সেদিন বিকেলে বাড়ির সামনে আবুল কাসেমকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ পরিবারের।

 

আবুল কাসেমের স্ত্রী লাবণী আক্তার জানান, হুমকি-ধমকির কারণে তারা কয়েক দিন ধরে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রোববার সকালে আবুল কাসেম বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পান। দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

 

 

নিহতের ভাই আবুল কালাম বলেন, দীর্ঘদিনের ভয়, মানসিক চাপ ও প্রকাশ্যে অপমানের কারণে তার ভাই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

এদিকে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে তার স্ত্রী রুবা আক্তার দাবি করেন, তার স্বামী বাড়িতে নেই এবং তিনি যতদূর জানেন, ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করা হয়নি।

 

 

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে এসেছে। পরিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।