রাণীশংকৈলে পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২০ বস্তা সার জব্দ
- আপডেট: ১০:০০:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৮০১৩

রাণীশংকৈলে পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২০ বস্তা সার জব্দ
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ফুটানি টাউন বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে ২০ বস্তা রাসায়নিক সার জব্দ করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সারগুলো জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাজারের একটি পরিত্যক্ত ঘরে ২০ বস্তা রাসায়নিক সার দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা সারগুলো নিজেদের হেফাজতে নেন। এ সময় ভেলাই আটকরা গ্রামের কৃষক মহসিন আলী সারগুলো তাঁর বলে দাবি করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মালিকানার পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দেখাতে না পারায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে এলাকাবাসী বিষয়টি স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানাকে জানান। তিনি ঘটনাস্থলের বাইরে থাকায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে নেকমরদ ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে যান।
এরপর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নির্দেশে এসআই সবুজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় সাংবাদিক ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুলিশ পরিত্যক্ত ঘর থেকে সারগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
কৃষক মহসিন আলী দাবি করেন, তাঁর বাবা, ভাই ও নিজের কৃষি উপকরণ বিতরণ কার্ড ব্যবহার করে সখের টাউন বাজারের আঁখি ট্রেডার্স ও লাকী ট্রেডার্স থেকে তিনি এসব সার সংগ্রহ করেছেন।
লাকী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল আজিজের ছেলের দাবি, মহসিন আলী তাঁদের দোকান থেকে ৭ বস্তা সার উত্তোলন করেছেন। দুপুর ১টার দিকে মহসিন আলীর আনা ভ্যানে ওই ৭ বস্তা সার তিনি নিজেই তুলে দিয়েছেন। তবে পরিত্যক্ত ঘর থেকে জব্দ করা সার তাঁদের গোডাউনের নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে আঁখি ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আইনুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রাণীশংকৈল উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফুটানি টাউন বাজারের একটি গোডাউন থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭ বস্তা ইউরিয়া, ৫ বস্তা পটাশ, ৪ বস্তা টিএসপি ও ৪ বস্তা ডিএপি—মোট ২০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। পরে সারগুলো থানা হেফাজতে দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, জব্দ করা সারগুলোর বৈধ মালিকানা কেউ দাবি করলে কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে সেগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।
















