০৫:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

রানীশংকৈলে তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে ঢুকে বর্বর হামলা ও লুটপাট: নারী ও বৃদ্ধসহ আহত ৩, থানায় অভিযোগ ।

  • আপডেট: ০৫:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১৮০০১

রানীশংকৈলে তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে ঢুকে বর্বর হামলা ও লুটপাট: নারী ও বৃদ্ধসহ আহত ৩, থানায় অভিযোগ ।

 

 

 

এস,কে সুজন নিজস্ব প্রতিনিধি।।

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে নারী ও বৃদ্ধসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ জুন বিকেলে উপজেলার ভরনিয়া (সিকনাথ) গ্রামে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম (৪৫) বাদী হয়ে রানীশংকৈল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন বিকেল আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকার সময় আব্দুর রহিমের একটি ৮ মাস বয়সী গরুর বাছুর ঘাস খেতে খেতে প্রতিবেশী অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে চলে যায়। এ সময় দরেমা খাতুন বাছুরটিকে আটকে রেখে আব্দুর রহিম ও তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। আব্দুর রহিম এর প্রতিবাদ করলে দরেমা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন।

পিতার ওপর হামলা দেখে আব্দুর রহিমের মেয়ে মোছাঃ নূপুর (ভিকটিম) এগিয়ে আসলে বিবাদী রাজিউর রহমান রাজু, নাজমুল হোসেন এবং দরেমা বেগমসহ অন্যরা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। তারা নূপুরের চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। নূপুর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আব্দুর রহিমের ছোট মেয়ে সৌরভী আক্তার বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। তখন তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

মেয়েদের ও ছেলের চিৎকারে ঘর থেকে বৃদ্ধ দাদা মোঃ সমির উদ্দীন (ভিকটিম) এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ও শরীর রক্তাক্ত ও নীলফোলা জখম করে মাটিতে ফেলে রাখে। স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আসামিরা চলে যায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের পর আসামিরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। একই সাথে ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা এবং আব্দুর রহিমের স্ত্রী ও মেয়ের প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও জমির আসল দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করলে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা ।

বর্তমানে গুরুতর আহত বৃদ্ধ সমির উদ্দীন ও মোছাঃ নূপুর রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে রানীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি গ্রহণ করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

রানীশংকৈলে তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে ঢুকে বর্বর হামলা ও লুটপাট: নারী ও বৃদ্ধসহ আহত ৩, থানায় অভিযোগ ।

আপডেট: ০৫:৩৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

রানীশংকৈলে তুচ্ছ ঘটনায় বাড়িতে ঢুকে বর্বর হামলা ও লুটপাট: নারী ও বৃদ্ধসহ আহত ৩, থানায় অভিযোগ ।

 

 

 

এস,কে সুজন নিজস্ব প্রতিনিধি।।

 

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ঢুকে নারী ও বৃদ্ধসহ একই পরিবারের ৩ জনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ৬ জুন বিকেলে উপজেলার ভরনিয়া (সিকনাথ) গ্রামে এই বর্বর হামলার ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রহিম (৪৫) বাদী হয়ে রানীশংকৈল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৬ জুন বিকেল আনুমানিক ৬:৩০ ঘটিকার সময় আব্দুর রহিমের একটি ৮ মাস বয়সী গরুর বাছুর ঘাস খেতে খেতে প্রতিবেশী অভিযুক্তদের বাড়ির পাশে চলে যায়। এ সময় দরেমা খাতুন বাছুরটিকে আটকে রেখে আব্দুর রহিম ও তার পরিবারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। আব্দুর রহিম এর প্রতিবাদ করলে দরেমা তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন।

পিতার ওপর হামলা দেখে আব্দুর রহিমের মেয়ে মোছাঃ নূপুর (ভিকটিম) এগিয়ে আসলে বিবাদী রাজিউর রহমান রাজু, নাজমুল হোসেন এবং দরেমা বেগমসহ অন্যরা লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। তারা নূপুরের চুল ধরে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে। নূপুর অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আব্দুর রহিমের ছোট মেয়ে সৌরভী আক্তার বোনকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে। তখন তাকেও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

মেয়েদের ও ছেলের চিৎকারে ঘর থেকে বৃদ্ধ দাদা মোঃ সমির উদ্দীন (ভিকটিম) এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকেও এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি, লাথি ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ও শরীর রক্তাক্ত ও নীলফোলা জখম করে মাটিতে ফেলে রাখে। স্বজনদের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আসামিরা চলে যায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের পর আসামিরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে ঘর ভাঙচুর করে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে। একই সাথে ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা এবং আব্দুর রহিমের স্ত্রী ও মেয়ের প্রায় ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও জমির আসল দলিলপত্র লুট করে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় বিষয়টি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করলে ভুক্তভোগী পরিবারকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা ।

বর্তমানে গুরুতর আহত বৃদ্ধ সমির উদ্দীন ও মোছাঃ নূপুর রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

এদিকে রানীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ এজাহারটি গ্রহণ করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।