১২:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬

রাণীশংকৈলে ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারি খতিয়ানে নেই

  • আপডেট: ০৬:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮০১৩

রাণীশংকৈলে ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারি খতিয়ানে নে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাণীশংকৈল:

সরকারি ভবন, সরকারি শিক্ষক ও নিয়মিত পাঠদান—সবকিছুই চলছে। কিন্তু যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেই জমির মালিকানা এখনো নিশ্চিত হয়নি সরকারের নামে। কোথাও দাতার নামে, কোথাও উত্তরাধিকারীদের নামে, আবার কোথাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে জমির রেকর্ড। এতে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাণীশংকৈল উপজেলার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির জমির রেকর্ড ও নামজারি এখনো সরকারের নামে সম্পন্ন হয়নি। ফলে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৫ শতক জমি এখনো বি.আর.এস. খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাটশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ শতক জমির রেকর্ড রয়েছে ‘পূর্ব পাকিস্তান সরকার’-এর নামে। ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ শতক জমির রেকর্ড রয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে। এভাবে উপজেলার ৩৮টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ বিঘা জমি এখনো সরকারের নামে হালনাগাদ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় স্থানীয় ব্যক্তি বা পরিবারের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তীতে দাতাদের মৃত্যুর পর অনেক ক্ষেত্রে জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি হলেও সরকারের নামে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া কিছু বিদ্যালয় এসএ জরিপের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জমির রেকর্ড প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী বি.আর.এস. জরিপের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন যথাসময়ে জমা না হওয়ায় সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

চোপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুমা খাতুন বলেন, “জমির রেকর্ড হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।”

বনগাঁও শিয়ালডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন নবী বলেন, “বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমিতে পরিচালিত হলেও জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় তথ্য শিক্ষা অফিসে দেওয়া হয়েছে।”

ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সইদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে। সরকারের নামে হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দ্রুত সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী বা অংশীদারদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও অবকাঠামো নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যেসব বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়নি, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি, সেগুলো উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি বিভাগের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জমি-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে কমবে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

রাণীশংকৈলে ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারি খতিয়ানে নেই

আপডেট: ০৬:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

রাণীশংকৈলে ৩৮ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারি খতিয়ানে নে

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাণীশংকৈল:

সরকারি ভবন, সরকারি শিক্ষক ও নিয়মিত পাঠদান—সবকিছুই চলছে। কিন্তু যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছে এসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেই জমির মালিকানা এখনো নিশ্চিত হয়নি সরকারের নামে। কোথাও দাতার নামে, কোথাও উত্তরাধিকারীদের নামে, আবার কোথাও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে জমির রেকর্ড। এতে ভবিষ্যতে জমি নিয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ৩৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, রাণীশংকৈল উপজেলার ১৫৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টির জমির রেকর্ড ও নামজারি এখনো সরকারের নামে সম্পন্ন হয়নি। ফলে নতুন ভবন নির্মাণ, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, রাণীশংকৈল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৫ শতক জমি এখনো বি.আর.এস. খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। পাটশ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০০ শতক জমির রেকর্ড রয়েছে ‘পূর্ব পাকিস্তান সরকার’-এর নামে। ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ শতক জমির রেকর্ড রয়েছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে। এভাবে উপজেলার ৩৮টি বিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ বিঘা জমি এখনো সরকারের নামে হালনাগাদ হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার অধিকাংশ বিদ্যালয় স্থানীয় ব্যক্তি বা পরিবারের দান করা জমিতে প্রতিষ্ঠিত। পরবর্তীতে দাতাদের মৃত্যুর পর অনেক ক্ষেত্রে জমি উত্তরাধিকারীদের নামে নামজারি হলেও সরকারের নামে মালিকানা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া কিছু বিদ্যালয় এসএ জরিপের পর প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জমির রেকর্ড প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। পরবর্তী বি.আর.এস. জরিপের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন যথাসময়ে জমা না হওয়ায় সমস্যাগুলো রয়ে গেছে।

চোপড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা কুলসুমা খাতুন বলেন, “জমির রেকর্ড হালনাগাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপজেলা শিক্ষা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে।”

বনগাঁও শিয়ালডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরন নবী বলেন, “বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব জমিতে পরিচালিত হলেও জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় তথ্য শিক্ষা অফিসে দেওয়া হয়েছে।”

ভেলাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সইদুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড বর্তমানে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নামে রয়েছে। সরকারের নামে হালনাগাদের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের দাবি, সরকারি বিদ্যালয়ের জমি দ্রুত সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত করা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারী বা অংশীদারদের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে। এতে বিদ্যালয়ের মাঠ ও অবকাঠামো নিয়েও জটিলতার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “যেসব বিদ্যালয়ের জমি এখনো সরকারের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়নি, সেগুলোর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “যেসব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমির রেকর্ড এখনো সরকারের নামে হয়নি, সেগুলো উপজেলা প্রশাসন ও ভূমি বিভাগের সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে রেকর্ডভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ভবিষ্যতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও জমি-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকাংশে কমবে।”